Friday, March 25, 2022

সড়কের দু’পাশে রাখা নানা রঙের ফুলের চারা

 রায়হান সিদ্দিকঃ  

যশোর শহরের আলী হোসেন মনি সড়কে অবস্থিত নার্সারিগুলোতে এখন চলছে মৌসুমি ফুলের চারার রমরমা ব্যবসা। চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, গাঁন্ধা, ভারবিনা, সেলোমিয়ার, সিলভিয়ার, পুরতুলিকা, সিনেরিয়া, গেজোনিয়া, পিটুনিয়া, জেরেনিয়াম, ডাইনটাস, এন্টারহেনাম, হলিহক্স, কেরেন্ডালা, লুপিন, টোরেনিয়া, এস্ট্রার, সানফ্লাওয়ার, কসমস, স্লোবাল, সুইটি লিয়ালসহ হরক রকমের ফুলের চারা  কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। 

সড়কের দু’পাশে রাখা নানা রঙের ফুলের চারা যেমন সড়কের সৌন্দার্য বাড়িয়েছে তেমনি চলতি পথে অনেক ক্রেতায় প্রয়োজন মতো ফুল গাছের চারা কিনছেন। শহরের ভেতর এই একটি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে নার্সারির ব্যবসা। ফল, ফুল, ঔষুধিসহ প্রায় ৩০০ প্রজাতির চারা  রয়েছে নার্সারিগুলোতে। মৌসুমে এখানে প্রতিদিন  আট থেকে দশ হাজার টাকার চারা  বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। সেপ্টেম্ববর থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মৌসুমি ফুলের চারার চাহিদা থাকে অনেক বেশি। যশোরের এই চারা যশোর ছাপিয়ে পৌছে যায় খুলনা,সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায়। আগে ঢাকা থেকে চারা কিনে আনলেও বর্তমানে এখানকার ব্যবসায়ীরা নিজেরাই উৎপাদন করছেন বিভিন্ন প্রজাতির চারা । ২০টাকা দামের একটি চারার উৎপাদন খরচ হয় ১২-১৪ টাকা। ৩০টাকা দামের চারার ব্যয় ২৫টাকা। 

ব্যবসায়ীরা জানান, এই ব্যবসায় প্রধান মূলধন পরিশ্রম। উৎপাদন খরচ বেশি থাকলেও নিজেদের পরিশ্রমই তাদের লাভের মুখ দেখায়। ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারলে নার্সারি ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। 

ঈশা নার্সারীর সত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, সারা বছরের তুলনায় এই সময়ে ফুলের চারার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এই মৌসুমে সব থেকে বেশি বিক্রি হয় চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, গোলাপ, গাদা ফুলের চারা। প্রতিদিন আট থেকে দশ হাজার টাকার চারা বিক্রি হয়। তবে জায়গা কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সব রমকম চারা  আমরা রাখতে পারিনে । তাছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে আমাদের কোন রমক সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। সরকার যদি নার্সারি ব্যবসার জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে তাহলে এই ব্যবসা করে অনেকেই স্বাবলম্বী হতে পারবে। 

ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে কতজনা অর্থ খরচ করে ফুলের বাগান তৈরি করে এমন প্রশ্ন অনেকের  জাগতে পারে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছেন, ‘জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি‘ দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার ফুল কিনে নিও, হে অনুরাগী!’ বর্তমানে বাসা বাড়ির সৌন্দার্য বর্ধনের জন্য ছাদ বাগানের প্রচলন বেড়েছে, অনেকেই আবার বাড়ির সামনে খালি জায়গায় গড়ে তুলছেন ফুলের বাগান।

ফুল প্রেমী উপশহরের বাসিন্দা আফতাব হোসেন মিন্টু জানান, ছোট বেলা থেকেই সখ ছিলো একটি ফুলের বাগান তৈরি করবেন। বর্তমানে বাড়ির সামনে খালি জায়গায় তৈরি করেছেন সখের সেই ফুল বাগান। যেখানে শোভা পেয়েছে ত্রিশ থেকে চল্লিশ প্রজাতির নানা রঙের ফুল গাছ। 

তিনি জানান, ফুলের চারাগুলো কিনেছেন আলী হোসেন মনি সড়কে অবস্থিত নার্সারি থেকে। শহরের ভেতর এমন নার্সারি থাকায় কাজের ফাকে প্রায় আসেন ফুল গাছের চারা কিনতে। 

যশোর সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ফাল্গুনি জানান, হাত খরচের টাকা বাচিয়ে বাসাতে ছাদ বাগান করেছেন। গোলাপ, রঞ্জন, গাদা, নয়ন তারাসহ শতাধিক প্রজাতির ফুল গাছ রয়েছে তার সংগ্রহে। যখনই সময় পান ছুটে চলে আসেন আলী হোসেন মনি সড়কে অবস্থিত নার্সারিগুলোতে। তারপর নতুন জাতের ফুল গাছের চারা খুঁজে পেলে তা সংগ্রহ করেন। 

তিনি বলেন, নার্সারির জায়গা কম থাকায় ভালোভাবে নার্সারি ঘুরে দেখতে পারেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী সব চারা  এখানে পাওয়া যায় না তখন অগ্রিম অর্ডার দিয়ে চারা সংগ্রহ করতে হয়। 

নার্সারির জায়গা বাড়ানোর ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সরকারি জায়গায় দোকান করে নার্সারি চালাচ্ছি। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যদি আমাদের আরো কিছু জায়গা দেয়া হয় তাহলে আমরা বড় পরিসরে নার্সারি গড়তে পারবো। তখন ক্রেতারা এখানে তাদের চাহিদামত সব রকমের চারা গাছ পাবেন।



শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: